একজন সম্মানিত পাঠক এই ব্লগে কিছু প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্ন গুলো আমার দৃষ্টিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জামায়াত সম্পর্কিত বলেই নয়, কিছু প্রশ্নের উত্তর মুসলমান হিসেবে আমাদের জানা দরকার। তাই আমি উত্তর জানার চেষ্ঠা করেছি। তা সবার সাথে শেয়ার করলাম। ১। ইসলামী দলের সংজ্ঞা কি? সংগঠনঃ- সংগঠন শব্দের সাধারণ অর্থ সংঘবদ্ধকরণ। এর বিশেষ অর্থ দলবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ জীবন। ইসলামী দল বা সংগঠনঃ- ইকামাতে দ্বীনের কাজ যে সংগঠন করে তাকেই বলা হয় ইসলামী দল বা সংগঠন। বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে ইক্বামাতে দ্বীন এর অর্থ হল আল্লাহর দ্বীন বা ইসলামকে প্রতিষ্ঠা বা কায়েম করা। দুনিয়াতে সব নবী ও রাসুলদের দায়িত্ব ছিল দ্বীন বা ইসলামকে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্ঠা চালানো। আল্লাহ তাঁদেরকে সে উদ্দ্যেশ্যই এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, “তিনিই সে সত্তা যিনি তাঁর রাসুলকে হিদায়াত ও একমাত্র হক দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন যেন (সে দ্বীনকে) অন্য সব দ্বীনের উপর বিজয়ী করেন।” - সূরা তাওবাঃ ৩৩, সূরা ফাতহঃ ২৮, সূরা আস সফঃ ৯। আল্লাহ যা হুকুম করেছেন তা মানব সমাজে তখনই পরিপূর্ণ ভাবে বাস্তবায়ন হতে পারে যখন “দ্বীনে হক” কায়েম থাকে। ইক্বামাতে দ্বীন ছাড়া সমাজ থেকে কোন হারামই উৎখাত করা সম্ভব হয়না। আল্লাহর রাসুলও সমাজে যত ফরজ চালু করতে পেরেছিলেন তা দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে করেছিলেন । ইক্বামাতে দ্বীনের দায়িত্ব ব্যাতিরেকে নামায, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি কোন ফরজকেই সঠিকভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়। তাই আল্লাহ কুরআনে অনেকবার আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠা কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা।” অর্থাৎ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্ঠা করা ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য। কারণ পরিপূর্ণ ভাবে আল্লাহর দ্বীন যদি জমিনে প্রতিষ্ঠিত না থাকে তবে আল্লাহর অন্যন্য হুকুম সমূহও পরিপূর্ণ ভাবে আদায় বা পালন করা সম্ভবপর হয়না। পরিপূর্ণ ভাবে মুসলমান হিসেবে জীবন যাপন করার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই দ্বীনকে বিজয়ী করার চেষ্ঠা করতে হবে। আল্লাহ কুরআনের অন্যত্র আমাদেরকে দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন এভাবে, “ বলো, হে আমার রব আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে ও আমাকে বের করাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাকে একটি সাহায্যকারী শক্তি প্রদান করো। ” সুরা বনী ইসরাইলঃ ৮০। এখানে ‘সাহায্যকারী শক্তি’ মানে এমন একটি রাষ্ট্রশক্তি যে রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীন বা ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই ‘ইক্বামাতে দ্বীন’ শুধুমাত্র ফরজ নয় বরং সব ফরজের বড় ফরজ। ইক্বামাতে দ্বীনের এই ফরজ কাজ একা পালন করা সম্ভব নয়। এমনকি দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ও পরিপূর্ণ যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ হওয়ার পরও কোন নবী-রাসুলও দ্বীনকে একা বিজয়ী করতে পারেনি। প্রত্যেক নবী-রাসুলই দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার সাথে সাথে দাওয়াত গ্রহণকারীদের সংঘবদ্ধ করেছেন এবং সংঘবদ্ধ ভাবে ধাপে ধাপে দ্বীনকে বিজয়ী করার পথে অগ্রসর হয়েছেন। তাই জামায়াতী জিন্দেগীকে আল্লাহর আনুগত্য ও ইসলামের অনূসরণের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল অবশ্যই থাকবে যারা মানুষদেরকে সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে এবং তারাই হল সফলকাম। ” - সুরা আল-ইমরানঃ ১০৪। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “ আমি তোমাদের পাঁচটি কাজের আদেশ দিচ্ছি যা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। তা হলোঃ ১. জামায়াতবদ্ধ হবে, ২. নেতার আদেশ মনোযোগ দিয়ে শুনবে, ৩. তার আদেশ মেনে চলবে, ৪. হিজরত করবে, ৫. আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। যে ব্যাক্তি জামায়াত বা ইসলামী সংগঠন ত্যাগ করে এক বিঘত পরিমাণ সরে গেল সে নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেললো - যতক্ষণ না সে সংগঠনে ফিরে আসবে।” - আহমদ, তিরমিযী। অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সংগঠিত ভাবে জীবন যাপন করা ফরজ। বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভাবে জীবন যাপন এবং ইসলাম অনুশীলনের চেষ্টা কুরআন ও হাদীস পরিপন্থী। তাই হাদীসে এই বলে সতর্ক করা হয়েছে, “মেষের পাল থেকে বিচ্ছিন্ন মেষকে যেমন নেকড়ে বাঘ ধরে নিয়ে যায় তেমনি সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যাক্তিকে শয়তান নিজের খপ্পরে নিয়ে যায়।” এমনকি দুজন লোক একসাথে সফরে গেলেও সেখানে একজনকে আমীর বানানোর জন্য রাসুল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন। উমর (রাঃ) ও সাংগাঠনিক জীবনের উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে বলেছেন, “সংগঠন ছাড়া ইসলাম নেই”। অর্থাৎ সংগঠন ছাড়া ইসলামের কোন তাৎপর্য নেই। উপরের ব্যাখ্যার দ্বারা ইসলামী দল ও সাংগাঠনিক জীবনের গুরুত্ব সম্পর্কে সামান্য জানা যাবে আশা করি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন